প্রকাশিত:
৬ জুন ২০২৬, ২১:২২
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবির বাধায় সেটি সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বিজিবির অব্যাহত বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে প্রায় দুইদিন পর শূন্যরেখা থেকে তাদেরকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, গতকাল রাত পর্যন্ত তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল। কিন্তু আজ (শনিবার) সকাল বেলা থেকে তাদেরকে সেখানে দেখতে পাওয়া যায়নি। আমাদের গোয়েন্দা সূত্র ও ধারণামতে, তাদেরকে ফেরত নিয়েছে বিএসএফ।
এছাড়া যে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সর্বদাই সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।
এদিকে বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর দিয়ে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের জোয়ানরা পুশইনের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী ২৮ জনের দলে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশু রয়েছে বলে জানা যায়।
পুশইনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঙ্গাবাড়ি বিওপির একটি চৌকস টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেন। এরপর সেদিন (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টা ও দুপুর আড়াইটার দিকে দুইবার পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবি বিএসএফকে স্পষ্ট জানায়, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক ভারতে থেকে থাকলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় আইন অনুযায়ী দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু রাতের আঁধারে কাউকে পুশইন মেনে নেবে না বিজিবি।
বিএসএফ জানায়, তারা দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাদেরকে ভারতে ফেরত নেবে না। এর ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় পতাকা বৈঠক। এতে করে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয় ওই ২৮ জনকে। বিজিবির অনুরোধে তাদের দুপুরের খাবার দেয় বিএসএফ।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাতভর বৃষ্টি হওয়ায় ওই ২৮ জন আমগাছের নিচে বৃষ্টিতে ভিজেই রাত পার করেছেন। এ সময় শূন্যরেখা থেকে তাদের কান্নার আওয়াজ শোনা গিয়েছিল।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: