প্রকাশিত:
৫ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ১৯:৫২
পরীক্ষা শুরুর আর মাত্র কিছুক্ষণ বাকি। একদিকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষা, অন্যদিকে কোলে ছোট্ট সন্তান। শিশুটিকে কার কাছে রেখে পরীক্ষার হলে যাবেন—এই দুশ্চিন্তায় যখন চোখে-মুখে উৎকণ্ঠা এক নারী পরীক্ষার্থীর, তখনই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিলেন এক নারী পুলিশ সদস্য।
পেশাগত দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে পরীক্ষার্থীর শিশু সন্তানকে নিজের কোলে তুলে নেন পুলিশ কনস্টেবল শিল্পী। সেই দৃশ্যই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে, জেলা প্রশাসনের নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে।
পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে এসেছিলেন এক নারী। সঙ্গে ছিল তার ছোট্ট শিশু। পরীক্ষা শুরুর সময় ঘনিয়ে এলেও শিশুটিকে কার কাছে রেখে তিনি পরীক্ষার হলে যাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ওই মা। নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয় তার মধ্যে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ কনস্টেবল শিল্পী। ওই নারীর উৎকণ্ঠা বুঝতে পেরে এক মুহূর্ত দেরি করেননি তিনি। মমতায় শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নেন। এর পর পুরো পরীক্ষার সময় শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব নেন নিজের কাঁধে।
শিল্পীর কোলে শান্তভাবেই ছিল শিশুটি। ফলে, সন্তানকে নিয়ে আর কোনো চিন্তা করতে হয়নি মায়ের। নিশ্চিন্ত মনে পরীক্ষার হলে গিয়ে নিজের পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।
ঘটনাটি উপস্থিত অন্য পরীক্ষার্থী ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নজরে আসতেই ছড়িয়ে পড়ে প্রশংসা। একজন পুলিশ সদস্যের এমন মানবিক আচরণে মুগ্ধ হন সবাই। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কনস্টেবল শিল্পীর প্রশংসায় সরব হন অনেকেই।
অনেকের মতে, পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও সেই দায়িত্বেরই অংশ। কনস্টেবল শিল্পী যেন সেই কথাটিই নিজের আচরণ দিয়ে মনে করিয়ে দিলেন।
একজন নারী শুধু সন্তান সামলানোর কারণে যেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকটি বিবেচনায় নিয়ে শিশুটির দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
শিল্পীর এই ছোট্ট মানবিক উদ্যোগ হয়তো তার দায়িত্বের তালিকায় আলাদা কোনো পদক্ষেপ নয়। কিন্তু, একজন মায়ের কাছে এটি হয়ে উঠেছে বড় এক স্বস্তি। আর মানুষের কাছে পুলিশের পোশাকের আড়ালে থাকা মানবিক মুখটির এক সুন্দর প্রতিচ্ছবি।
পেশাগত পরিচয়ের বাইরে শিল্পী ছিলেন একজন মমতাময়ী অভিভাবক। তার কোলে থাকা শিশুটির শান্ত মুখ যেন বলে দিচ্ছিল—মানবিকতার কাছে দায়িত্বের সীমানা কখনো কখনো আরো বড় হয়ে যায়।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: