[email protected] ঢাকা | সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০শে ভাদ্র ১৪৩৩
thecitybank.com

পদ্মায় নৌকাডুবি: ২০ দিনের শিশু তানিশাকে উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছে বিএসএফ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
১৩ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ১২:৪৯

বিজিবি সদস্য এর কোলে শিশু তানিশা। ছবি: সংগ্রহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ জনকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ) এবং তাদেরকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে একজন বৃদ্ধ এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে ১০ জনের সাথে মায়ের কোলে থাকা ২০ দিনের শিশু তানিশাকে উদ্ধার করে প্রশংসা পাচ্ছেন বিএসএফ।

জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী থেকে জোহরপুর-টেকের দিকে যাওয়ার পথে পদ্মা নদীতে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকাটিতে থাকা ১২ যাত্রীর মধ্যে ছিল সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতির মাত্র ২০ দিন বয়সী সন্তান তানিশা।

নৌকাডুবির পর উত্তাল পদ্মার স্রোতে ভেসে যেতে যেতে তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশি পৌঁছে যান ভারতীয় জলসীমায়। সেখানে তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পরে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর ১০ জনকে ফেরত দেয় বিএসএফ এবং তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় ১০ জনকে উদ্ধার করেছে বিএসএফ এর খানদোহা ক্যাম্পের সদস্যরা। আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। পরে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে ফেরত দিয়েছে এবং তাদেরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অপরদিকে শিশু তানিশাসহ ১০ জনকে উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএসএফকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে নেটিজনরা। স্পিডবোট  করে বিএসএফ এর ১০ জনকে উদ্ধারের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিও-র কমেন্টে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

বাবুল হোসেন নামের একজন মন্তব্য করেছেন, অসংখ্য ধন্যবাদ ভারতীয় বিএসেফ কে, আসলে সম্পর্ক তৈরি হয় আন্তরিকতা আর কাজের মাঝে, আশা করি প্রতিবেশী দুই দেশ মিলে মিশে থাকবে, প্রতিবেশী ভালো না থাকলে কেউ ভালো থাকবে না, পৃথিবী শান্তি ও সৌহাদ্যর।

নাজমুল হক মন্তব্য করেছেন, মানবতার জয় হোক, অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভারতীয় বিএসএফ।

নায়েম ইসলাম নামের আরেকজন মন্তব্য করেছেন, নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য শুভকামনা রইলো।

সর্বশেষে বলা যায়, ২০ দিনের শিশু তানিশার বেঁচে ফেরার গল্পটি কেবল একটি মিরাকেল নয়, বরং মাতৃত্বের জয় আর সীমানা পেরিয়ে মানবিকতার এক অনন্য নিদর্শন। মায়ের কোমল কোল ছেড়ে পদ্মার উত্তাল ও প্রমত্তা স্রোতে ভেসে গিয়ে যখন তার বাঁচার আশা প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল, ঠিক তখনই জলসীমানার সব বাধা ভেঙে দিয়েছিল মানুষের সহানুভূতির হাত।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সময়োপযোগী উদ্যোগ, উদ্ধারকারীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা আর পরম করুণাময়ের কৃপায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছে তানিশা। এই ফিরে আসা শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া নিষ্পাপ শিশুর ঘরে ফেরা নয়; পদ্মার গ্রাসে বিলীন হতে বসা একটি পরিবারের বুকে নতুন আলো, নতুন আশা আর বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন ফিরিয়ে দেওয়ার গল্প।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর