প্রকাশিত:
২০ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ২২:৫৩
দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তীব্র খরাপ্রবণ এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রান্তিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিবেশগত মানবাধিকার ও ভূমি অধিকার সুরক্ষায় সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক এক 'মিডিয়া ডায়ালগ' (মতবিনিময় সভা) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আমনুরা লুথারেন মিশন হাসপাতাল হলরুমে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘পরিবেশগত মানবাধিকার ও জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুশীল সমাজ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ’ প্রকল্পের আওতায় এই সংলাপের আয়োজন করে বে-সরকারি উন্নয়ন ও সেবামূলক সংস্থা ‘ন্যাশনাল এজেন্সী ফর গ্রিন রেজুলেশন’ (এনএজিআর/NAGRI)। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেটজ বাংলাদেশের সহায়তায় এবং ডাসকো ফাউন্ডেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
সংলাপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও নাচোল উপজেলার জাতীয় ও স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
মিডিয়া ডায়ালগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনএজিআর-এর নির্বাহী পরিচালক স্টিফান সরেন। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাচোল অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের চরম অনিয়মিততা এবং তীব্র খরায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন সাঁওতাল, ওঁরাও, কোল, তুরি, রাজোয়াড় ও মাহালী সম্প্রদায়ের আদিবাসী মানুষ এবং প্রান্তিক নারী ও যুব সমাজ। বিশেষ করে আদিবাসীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অস্তিত্ব রক্ষায় তাদের ভূমির অধিকার রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হতে হবে।”
উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৩নং ঝিলিম ইউনিয়ন এবং নাচোল উপজেলার নাচোল ও নেজামপুর ইউনিয়নের মোট ২৭টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ২,৭১৬ জন এবং পরোক্ষভাবে ১১,৩৬২ জন প্রান্তিক মানুষকে জলবায়ু অভিযোজন, সামাজিক বনায়ন এবং পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে সুবিধাভোগীদের ৭০ শতাংশই নারী ও যুব সমাজ এবং ন্যূনতম ৩০ শতাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।
সংলাপে এনএজিআর-এর কর্মকর্তা ও কর্মীবৃন্দ জলবায়ু ন্যায়বিচার (Climate Justice) প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG - ১৩, ১৫ ও ১৬) অর্জনে বেশ কিছু দাবি ও উদ্যোগের ওপর জোর দেন:
১. স্থানীয় সরকারের বাজেটে জলবায়ু সংবেদনশীল বরাদ্দ বৃদ্ধি।
২. ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে 'কমিউনিটি সিএসও' (CSO) গঠন।
৩. স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থী ফোরাম গঠন।
৪. আদিবাসী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি।
অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনা শেষে সাংবাদিক ও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংকট, মানবাধিকার ও ভূমির অধিকারের কথা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মনিরুল ইসলাম/আ.আ
মন্তব্য করুন: