[email protected] ঢাকা | শনিবার, ৯ই মে ২০২৬, ২৬শে বৈশাখ ১৪৩৩
thecitybank.com

মাত্র ১০০ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, সালেহা-তোফাজ্জল ফাউন্ডেশনের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে অবহেলিত জনপদ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
৮ মে ২০২৬, ২০:০২

অতিথিবৃন্দ। ছবি: চাঁপাই জার্নাল

গ্রামের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের লক্ষিপুর কামারপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘সালেহা-তোফাজ্জল ফাউন্ডেশন’। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর পৈতৃক সম্পত্তির ওপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. এ.এইচ.এম তহুরুল ইসলামের হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার মানুষের ভরসা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। মূলত গ্রামের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ সেবা কমপ্লেক্স গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এই মানবিক যাত্রার সূচনা হয়।

ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম শুরু হয় একটি জামে মসজিদ নির্মাণের মধ্য দিয়ে, যার পরপরই চালু করা হয় আধুনিক মেডিকেল সেন্টার। বর্তমানে এই সেন্টারে মাত্র ১০০ টাকা ফি দিয়ে রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারছেন। এছাড়া সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের কথা চিন্তা করে মাত্র ৩৫০ টাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করার সুযোগ রাখা হয়েছে। জটিল রোগের উন্নত পরীক্ষার জন্য শহরের  বিভিন্ন মানসম্মত ক্লিনিকে এই ফাউন্ডেশনের সুপারিশে রোগীরা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় পাচ্ছেন। একইসঙ্গে হতদরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করছে।

ইয়াকুব আলী নামের স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এলাকার কৃতি সন্তান ডা. তোহরুল ইসলাম তার গ্রামের প্রতি মায়া ও ভালোবাসার কারণে এই এলাকায় একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছে। ফাউন্ডেশনটি প্রথমে মসজিদ নির্মাণ ও মেডিকেল সেন্টার চালুর মাধ্যমে সচল হয়। ধীরে ধীরে ফাউন্ডেশনটির শাখা প্রশাখা বাড়ছে। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাদ্রাসা, এতিম খানা এবং বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠিত হবে। যার মাধ্যমে এই এলাকার মানুষ আলোকিত হবে। এছাড়া আমি মনে করি তিনি যে ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছেন তা বৃত্তবানদের জন্য অনুকরণীয়। তাই তার মতো করে সবাই যদি এগিয়ে আসে তাহলে এই সমাজ আরোও উচু স্থান লাভ করবে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বলেন, তোফাজ্জল ও সালেহা পরিবারটি দীর্ঘদিন যাবত আমাদের এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যেকোন বিপদে আপদে তাদেরকে আমরা পাশে পায়। তাদের পারিবারিক উদ্যোগে এমন একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হবার কারণে আমরা খুশি এবং আনন্দিত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামে সালেহা-তোফাজ্জল ফাউন্ডেশন মেডিকেল সেন্টার খোলা হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য হলো এলাকার গরীব, অসহায় যারা রোগী আছে তাদের কাছে কিভাবে স্বাস্থ্য সেবাটা আমরা পৌছে দিতে পারি। বড় যে ক্লিনিকগুলো আছে সেগুলোতে খরচ অনেক বেশি কিন্ত এখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন নূন্যতম পয়সা দিয়ে এবং যারা টাকা দিতে পারেনা তাদেরকে তিনি একেবারে ছাড় দিয়ে দেন। এছাড়া এখানে একটি বৃদ্ধাশ্রম হবে, যার মাধ্যমে যাদের কোন থাকার জায়গা নাই, রাস্তা বা ফুটপাতে থাকেন তাদের জন্য একটা থাকার জায়গা হবে। তাই এই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম দেখে আমরা এলাকাবাসী উচ্ছাসিত এবং আনন্দিত।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিকবীদ হাফেজ আব্দুল আলীম বলেন, সালেহা-তোফাজ্জল ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম দেখে আমরা উচ্ছাসিত এবং আনন্দিত। এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এলাকায় একটি বীজ বপন হয়েছে যার  মাধ্যমে এই এলাকাটি আলোকিত হবে। সালেহা-তোফাজ্জল ফাউন্ডেশনের সাথে যে পরিবারটি জড়িত, সেই পরিবারটি পুরোটাই আলোকিত এবং এই পরিবারটি দীর্ঘদিন যাবত এই এলাকাতে আলোকিত করে আসছে। এই এলাকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য ফাউন্ডেশনটি উদ্যোগ নিয়েছেন। যার মাধ্যমে এলাকার গরীব ও অসহায় মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। তাই আমি মনে করি এই ফাউন্ডেশনটি আগামী দিনে এলাকাবাসীর কল্যাণে কাজে আসবে।

ফাউন্ডেশনে কর্মরত চিকিৎসক ডা. তানজিলা খাতুন বলেন, শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত এবং শুক্রবারের দিন সকালে ০৮টা থেকে ১০ পর্যন্ত রোগী দেখি। এখানে আমরা সবধরনের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকি। এছাড়া মাত্র সাড়ে তিনশো টাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করা যায় এবং মাত্র ১০০ টাকা ফি দিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো যায়। তাছাড়া অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে ঔষুধও সরবরাহ করা হয়।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. এ.এইচ.এম তহুরুল ইসলাম বলেন, গ্রামের জন্য কিছু করার লক্ষ্যেই এই প্রযেক্টটাতে হাত দিয়েছি। এই প্রযেক্টে মসজিদ, মাদ্রাসা, মেডিকেল সেন্টার ও এতিমখানা কাম বৃদ্ধাশ্রম হবে। এই প্রযেক্টটা আমাদের পৈতিক সম্পত্তিকে তৈরি হচ্ছে এবং আমার পরিবারের সদস্যরাও এই খানে সার্পোট দিয়ে যাচ্ছে। তাই সবাই মিলে আমরা আশা করছি এখানে একটা সুন্দর কমপ্লেক্স হবে। ইতিমধ্যেই মসজিদটা হয়ে গেছে এবং মেডিকেল সেন্টারও চালু হয়েছে। এছাড়া এখানে একটি মাদ্রাসা চালু হবে যেখানে শিশুরা পড়াশোনা করতে পারবে এবং এতিম খানায় বিনামূল্যে যাবতীয় সুবিধা পাবেন। তাছাড়াও বৃদ্ধাশ্রমে অসহায় মা ও বাবারা থাকতে পারবে। এ নিয়ে আমি সকলের সহোযোগিতা কামনা করছি।

তিনি আরোও বলেন, আমাদের গ্রামটি অত্র অঞ্চলের মধ্যে খুবই গরীব একটা গ্রাম। এই গ্রামের অনেক মানুষই স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকে টাকার অভাবে ভালোভাবে অপারেশন করতে পারে না এবং ভালোভাবে স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারছে না। কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য আমি এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি যাতে করে এলাকাবাসী নূন্যতম স্বাস্থ্যসেবাটি পায়।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর