প্রকাশিত:
১৮ জুন ২০২৬, ২১:৫৯
যেকোনো উপায়ে বাংলাদেশ আসতে নারাজ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। তাই প্রত্যর্পণ ঠেকাতে নিজের নামে মামলা করিয়েছেন তিনি। তার ঘনিষ্ঠ একজন আর্থিক সংক্রান্ত দায় দিয়ে মামলার বাদী হয়েছেন বলে দুবাইয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে চাইলে চলমান পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদকে ঘিরে নিজের লোক দিয়ে মামলা করার বিষয়টি অস্বীকার করেন বেনজীর আহমদের আইনি বিষয়ে দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
সূত্রমতে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুবাইয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা সে দেশের এনসিবি অফিসসহ এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। যেকোনো মূল্যে তারা বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে। এসব তথ্য জানতে পেরেই বেনজীর আহমেদ নতুন করে আইনের কৌশল অবলম্বন করছেন।
দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ী জানান, বেনজীর আহমেদের আইনি লড়াই শেষ হয়নি। বরং তার প্রত্যর্পণকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি ও কূটনৈতিক তৎপরতা। এরই মধ্যে দুবাইয়ে তার পক্ষ থেকে নতুন একটি দেওয়ানি ও ব্যক্তিগত আর্থিক সংক্রান্ত অভিযোগে একটি মামলা দেওয়া হয়েছে।
তবে এই আইনি পদক্ষেপের উদ্দেশ্য যেন তাকে ফেরত পাঠাতে না পারে। কারণ দুবাইয়ের কোনো ইস্যু নিয়ে, বিশেষ করে আর্থিক ও সম্পতি বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠে, তাহলে তাকে ফেরত দেওয়ার সুযোগ দুবাইয়ের আইনে নেই। ফলে এই মামলার নিষ্পত্তি করে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হয়েছে, বলেন তিনি।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণপ্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অনেক সময় স্থানীয় আদালতে বিভিন্ন ধরনের আবেদন বা মামলা করে থাকেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে তারা বিচারিক সুরক্ষা চান, গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন অথবা প্রত্যর্পণ কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকার সুযোগ চান।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইনে অস্বাভাবিক নয়।
বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রেও দুবাইয়ে এমন একটি আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও, তিনি নিজেই লোক দিয়ে মামলা করিয়েছেন—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য আদালতের নথি বা সরকারি কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়টি সম্পর্কে বেনজীর আহমদের আইনি বিষয়ে দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা তার জামিন নিয়ে ব্যস্ত আছি, এ পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদকে ঘিরে নিজের লোক দিয়ে মামলায় কেন যাব? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, দুবাই আদালত বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ আবেদন কীভাবে মূল্যায়ন করেন। সেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে নেওয়া প্রতিটি আইনি পদক্ষেপ এবং তার পক্ষ থেকে দাখিল করা সম্ভাব্য প্রতিটি আবেদনই আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
তবে কোনো অভিযোগ বা গুঞ্জনকে আদালতের যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট/ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: