প্রকাশিত:
২৩ জুন ২০২৬, ১৭:৪৫
প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত খুলবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী সফরের পর মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার খুলছে কিনা- জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এই ব্যাপারটা আসলে আমার পক্ষে জবাব দেওয়া কঠিন। এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেবেন কারণ তারা মিটিংয়ে ছিলেন। কিন্তু আমরা এখান থেকে যেটা বুঝতে পারছি, এই ব্যাপারটা ভালোভাবে আলোচনা হয়েছে এবং আমি কিছু ব্যক্তিগত কথাবার্তার ক্ষেত্রে খেয়াল করেছি, আমার কাছে মনে হলো—আমি এটাও আবারও বলছি, খুব নিশ্চিতভাবে বলছি না—এটা খুব দ্রুতই উন্মুক্ত হবে। আমরা এটা আশা করতে পারি, নিশ্চয়ই।
গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকার তাড়াহুড়ো করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, এ বিষয়ে আগে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও সেটির সব সুপারিশের সঙ্গে সরকার শতভাগ একমত নয়। আরও বিস্তৃত আলোচনা ও নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে সময় নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সরাসরি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিল না। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, শিশু, নারী ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আগের কমিশনের প্রতিবেদনটি যোগ্য ব্যক্তিদের পরিশ্রমের ফল এবং সেখানে স্টেকহোল্ডারদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সরকার হিসেবে বর্তমান সরকারের নিজস্ব কিছু ভাবনা রয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে কিছু ঘাটতিও রয়েছে বলে সরকারের কাছে মনে হয়েছে। তাই বিভিন্ন পক্ষের মতামত এবং নতুন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের অবমাননায় কঠোর হচ্ছে সরকার
প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হচ্ছে, এটি তার পোস্ট ছিল না। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো একটা ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বলেছে, তার মানে এটা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তা না। আবার অন্যভাবে নেবেন না প্লিজ। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব আমাদের সমাজে এখন তৈরি হয়েছে। কিন্তু একটা রাষ্ট্র কাজ করবে তার মতো করে। আপনি যে কথাটা বললেন, এটা যদি সত্য হয়, একটা রাষ্ট্র কারো ওপরে কোনো অন্যায়-অবিচার করবে না। কোনোভাবেই করবে না। যে ছাত্রের কথা বলছেন, এটা যদি এ রকম হয়ে থাকে যে এটা আসলেই এডিট করা ছিল, এখন কেউ একজন বলেছে—সেটাকে ভিত্তি করে আসলে রাষ্ট্র কাজ করবে না। এটা মনে রাখতে হবে। রাষ্ট্রের মেকানিজম আছে, সেটা চেক করার মতো এক্সপার্টিজ আছে। এই যে স্ক্রিনশটের কথা বলছেন, সেটা যদি ফেইক হয়ে থাকে, সেটাকে দেখে সেটার ভিত্তিতে কাজ করে ব্যবস্থা নেবে। এতে কোনো রকম কোনো সমস্যার কিছু নাই।’
তিনি বলেন, একজন জাইমা রহমান (প্রধানমন্ত্রীর কন্যা) আর একজন অন্য কোনো রহমান, বা অন্য কোনো নারী এই সমাজে—রাষ্ট্রের কাছে সমান অধিকার প্রাপ্য। আমি আবারও বলছি। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা, তার স্ত্রী, অথবা একজন সাধারণ মানুষ আমরা যারা আছি বা যে কেউ—অত্যন্ত প্রান্তিক কোনো নারী, কারো কন্যা, কারো স্ত্রী—রাষ্ট্রের কাছে সমান অধিকার রাখেন।
‘আমরা কিন্তু কিছু ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করছি। এই ধরনের কুৎসা, নোংরা কথা এই সরকার সহ্য করবে না। নারী হলেই কতগুলো এক্সট্রা নোংরা কথা এসে হাজির হয়। এটা পুরুষদের ফেস করতে হয় না। নারী হলে কতগুলো বীভৎস, বীভৎস কথাবার্তা নিয়ে হাজির হওয়া হয়—এগুলো আমরা থামাবো। আমরা এগুলো কগনিজেন্সে নেব এবং নিশ্চিত করব, আপনি যেটা বলছেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ—যিনি জড়িত নন—অবশ্যই তিনি কোনো সমস্যায় পড়বেন না।’
উপদেষ্টা বলেন, নারীর প্রতি অনলাইন কুৎসা, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে এটা নিয়ে কথা বলেছি। তিনি শুধু একজন কন্যার বাবা সেজন্য না, একজন প্রধানমন্ত্রী আসলে এই রাষ্ট্রের যত নারী আছে তাদের এই নিরাপত্তার দায়িত্বেও থাকেন। উনি অত্যন্ত সিরিয়াস। আমরা এটা খুব সিরিয়াসলি নেব। এই কথাটা সবাই যেন মন দিয়ে শোনেন সেটা আবেদন করছি। এটা যে একটা মারাত্মক ক্রাইম, এই ক্রাইমটা যে করা যাবে না, এটা তাদের মনে রাখতে হবে।’
অনলাইনে অপতথ্য ও ভুল তথ্য প্রতিরোধে নেপথ্যে কাজ হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমি নিজে এটাকে চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব দ্রুত করা যায়। আমি আপনাদের জানিয়েছি, আবারও বলি, আমাদের একটা লয়ার্স প্যানেল তৈরি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটা তৈরি হয়ে গেলেই আমরা খুব দ্রুত এসব ব্যাপারে স্টেপ নেওয়া শুরু করব। তারা লিগ্যাল নোটিশ থেকে শুরু করে আইনি যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারব।
‘ডিসইনফরমেশন করা যাবে না, এগুলো মারাত্মক ক্রাইম। এগুলোর ব্যাপারে আমি আবারও বলছি চার মাস গেলো, এখনো খুব বেশি সময় চলে গেছে তা না। আমাদের প্রস্তুতি শেষ হলে আপনারা আমাদের পদক্ষেপ দেখবেন।’
সারওয়ার আলমের বদলি নিয়ে যা জানালেন উপদেষ্টা
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে বদলির বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বলা হচ্ছে মাজারের অর্থের স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মাজারে তার একটা পদক্ষেপকে রিলেট করার কথা বলছেন। এটা কেউ কেউ করছে অনলাইনে। এটাকে আমরা এভাবে কেন বলব? মানে ঘটনাটা এটার পরে ঘটেছে বলে এই ধরনের একটা পারসেপশন তৈরির চেষ্টা হয়তো আছে।
তিনি বলেন, আমাদের মাজারগুলোতে কি হয়, কী কেমনভাবে হয় এটা নিয়েও একটা গ্রুপ আছে যারা, ইভেন আমরা ইন্টারিমের সময়ে দেখেছি রীতিমতো মাজারে হামলা হয়েছে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। তো একটা গোষ্ঠীও আছে যারা এটাকে এভাবে ফ্রেম করতে চেষ্টা করবে।
‘সরকারের ট্রান্সপারেন্সি যেমন থাকবে, সরকার তার জুরিসডিকশনের মধ্যে করা কিছু কাজ সবসময় আসলে তার জায়গা থেকে ব্যাখ্যাও দেবে না। এটাই নিয়ম। কিছু রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা থাকতে পারে। আর এই ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বলাই হয়েছে, বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এর বেশি আসলে আর কিছু বলার থাকবে না।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, স্পেকুলেশন নানান রকম করতে পারে। এই যে বললাম না, আমরা যখন যাই করি, যাই ঘটাই না কেন নানান স্পেকুলেশন ঘটতে থাকে। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে নানান রকম ইন্টারেস্ট গ্রুপ আছে। আর সরকারের বক্তব্য যেটা, সেটাই আপাতত এখানে বলবৎ থাকবে।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: