[email protected] ঢাকা | সোমবার, ৫ই অক্টোবর ২০২৬, ১৯শে আশ্বিন ১৪৩৩
thecitybank.com

মিশন আচার্যকে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রাশেদ খাঁন, নিয়োগ চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী

Ashik

প্রকাশিত:
৪ অক্টোবার ২০২৬, ২০:৫৬

ছবি: সংগ্রহীত

নিজস্ব ভিটেবাড়ি না থাকা সেই মিশন আচার্যকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন আজ রোববার মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন ও মিশনের পক্ষে ডিও লেটার (আধা সরকারিপত্র) দেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেন।

রবিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মিশন আচার্যকে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন রাশেদ খাঁন। রাশেদ খাঁন ও মিশন আচার্য দুজনেরই গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। মিশনের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর দেওয়া ডিও লেটারে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘আমি আমার নিজ জেলা ঝিনাইদহের সদর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, মিশন আচার্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান নামক স্থানে জন্মলগ্ন থেকে বসবাস করছেন। তিনি এই এলাকাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছি এবং আজ অবধি এই এলাকাতেই ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।’

রাশেদ খাঁনের ডিও লেটারে বলা হয়, ‘ছোটবেলা থেকে মিশন আচার্য পিতৃহীন হিসেবে বড় হয়েছেন। তবে তাঁর গর্ভধারিণী মা তাঁকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শিখিয়েছেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫–এ যথাযথভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আমার পাওয়া তথ্যমতে, মিশন আচার্য অত্যন্ত ভদ্র ছেলে। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক সংবাদ শোনা যায়নি। এসব বিষয় ও মানবিক বিবেচনায় বিধি অনুযায়ী আমার এলাকার সন্তান মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।’

মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে আজ বেলা দুইটায় রাশেদ খাঁন সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে রাশেদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘শিক্ষামন্ত্রী তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কল করে মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেন।’

উল্লেখ্য, মিশন আচার্য ঝিনাইদহ শহরের ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। তাঁর মা অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাঁকে পড়ালেখা শিখিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শেষ করে মিশন আচার্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরির সুপারিশপ্রাপ্ত হন মিশন আচার্য; কিন্তু নিজেদের কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি। তাঁর সঙ্গে যে ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৮০ জন ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা যোগদান করেছেন। নিয়োগপত্র না পাওয়ায় মিশন আচার্য যোগদান করতে পারেননি। সম্প্রতি এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।

সূত্র: প্রথম আলো/ডেস্ক/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর