প্রকাশিত:
৩ নভেম্বার ২০২৬, ২২:৪২
চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপকূলকে ব্যবহার করে সমুদ্রপথে ইউরিয়া সার পাচারের ধারাবাহিক তৎপরতায় উদ্বেগ বাড়ছে। প্রথমে ট্রাকে করে উপকূলীয় ঘাটে আনা হচ্ছে সার। পরে মাছ ধরার ট্রলার কিংবা কার্গো বোটে তুলে সমুদ্রপথে পাচারের চেষ্টা চলছে। গত দুই মাসে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের পাঁচটি অভিযানে ২ হাজার ৯৭১ বস্তা বা ১৪৮ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে মীরসরাইয়ের ইছাখালীতে দুটি ট্রাক থেকে ৩০১ বস্তা সার জব্দ করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়েছে।
বারবার বড় বড় চালান জব্দ হলেও সার পাচারের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ইউরিয়া সার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পৌঁছাচ্ছে এবং এর বিনিময়ে বাংলাদেশে মাদক ও অস্ত্র আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, গত শনিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের মুহুরী প্রজেক্টের ৪০ নম্বর গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে সারবোঝাই দুটি ড্রাম ট্রাক আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো. মতিউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন। দুটি ট্রাকে ৫০ কেজি ওজনের মোট ৩০১ বস্তা ইউরিয়া সার পাওয়া যায়। এসব সারের ডিলার মূল্য ৩ লাখ ৭৬ হাজার ২৫০ টাকা। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটজনকে থানায় নেওয়া হয়। জব্দ করা ট্রাক ও সার পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক দল প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে দুটি ট্রাকসহ ৩০১ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে। এ ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়েছে। সার পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর মীনরসরাইয়ের ইছাখালী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে চারটি ট্রাক ও একটি মাছ ধরার নৌযানসহ ৯৬০ বস্তা বা ৪৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার জব্দ করে। ট্রাক থেকে মাছ ধরার নৌযানে সার স্থানান্তরের সময় তিনজনকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা সারের আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পরে সার নিলামে বিক্রি করা হলেও ট্রাকগুলো এখনো উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে
এর আগের দিন ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬০০ বস্তা বা ৩০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার জব্দ করে কোস্ট গার্ড। ট্রাক থেকে কার্গো বোটে সার স্থানান্তরের সময় দুটি ট্রাকসহ দুজনকে আটক করা হয়। জব্দ করা সারের আনুমানিক মূল্য ছিল ২১ লাখ টাকা।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর সীতাকু-ের বাঁশবাড়িয়া ঘাট এলাকায় তিনটি ট্রাক থেকে ৭০০ বস্তা বা ৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার জব্দ করে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় দুটি ট্রাকসহ দুজনকে আটক করা হয়। জব্দ করা সারের আনুমানিক মূল্য ছিল ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ১ সেপ্টেম্বর সীতাকু-ের বাড়বকু- ঘাটে অভিযান চালিয়ে একটি কার্গো বোট থেকে ৪১০ বস্তা বা ২০ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার জব্দ করে কোস্ট গার্ড। ওই চালানের আনুমানিক মূল্য ছিল ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অভিযানের সময় পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
গত দুই মাসের পাঁচটি অভিযান পর্যালোচনায় সার পাচারের একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল সামনে এসেছে। প্রথমে ট্রাকে করে সার উপকূলীয় ঘাটে আনা হচ্ছে। এরপর মাছ ধরার ট্রলার কিংবা কার্গো বোটে স্থানান্তর করে সমুদ্রপথে পাচারের চেষ্টা চলছে। মীরসরাইয়ের ইছাখালী এবং সীতাকু-ের বাঁশবাড়িয়া ও বাড়বকু- ঘাটকে কেন্দ্র করে এসব তৎপরতা চললেও পাঁচটি ঘটনায় একই সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ইউরিয়া সার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পৌঁছাচ্ছে। এসব সারের বিনিময়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদক ও অস্ত্র আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: