[email protected] ঢাকা | বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২শে মাঘ ১৪৩২
thecitybank.com

বিএনপির নির্বচানী মিছিলে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী, খুঁজে পায় না পুলিশ!

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৬

নির্বচানী মিছিলে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জুয়েল রানা। ছবি: সংগ্রহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদের নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশের নির্বাচনী মিছিলে প্রকাশ্যে দেখা মিলেছে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জুয়েল রানার। অপরদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাকে আটক করতে সক্ষম হয়নি বলে জানা যায়। এ নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে জনমনে বিরুপ ধারনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বালুবাগান মহল্লায় ববিতার ভাড়াবাড়ি ও জুয়েল রানার বেলেপুকুরের বাড়িতে আলাদাভাবে অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। অভিযানে ববিতার বাড়িতে ৭৫০ গ্রাম ও জুয়েল রানার বাড়ি থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইনসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে এই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে গত বছরের ১২ অক্টোবর রায় ঘোষনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। রায়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ফাটাপাড়া মালবাগডাঙ্গা গ্রামের আমীর আলীর ছেলে জুয়েল রানা (৩২) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বালুবাগান মহল্লার ভাড়াটিয়া মুকুল রানার স্ত্রী ববিতা খাতুনকে  (৩১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিল আদালত। রায় ঘোষণার সময় ববিতা আদালতে উপস্থিত থাকলেও জুয়েলা রানা পলাতক ছিল। তারপর থেকে পলাতক জুয়েল রানাকে একাধিক অভিযান চালিয়েও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে আজকে (সোমবার) সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশের মিছিলে তাকে দেখা যায় এবং আলোচনার সৃষ্টি হলে রাতে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন তিনি। ফেসবুক স্টাট্যাসে জুয়েল রানা লিখেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশকে আর কষ্ট করে আমাকে খুঁজতে হবে না। আগামীকাল আমার মিশন শেষ করে পুলিশের কাছে স্যারেন্ডার দিব ইনশাআল্লাহ।’’

অপরদিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আসামী প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাকে দেখেও না দেখার ভান করছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সচেতন নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি বিচারব্যবস্থার অবমাননা এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা অবিলম্বে উক্ত আসামীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ নিয়ে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাংবাদিক ফারুক আহমেদ চৌধুরী লিখেছেন, “আহারে পুলিশ কত অসহায়। একজন মাদক মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী জনসভায় মিছিল করে। আবার ফেসবুক পোস্টে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে। নতুন বাংলাদেশের কি অসহায়ত্বের চিত্র “

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা সুজনের আহবায়ক আইনজীবী নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ বলেন, দেশের আইন অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি পলাতক অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া আইনত দণ্ডনীয়। কিন্ত প্রকাশ্যে নির্বাচনী মিছিলে অংশ নেওয়ার কয়েক ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খবাহীনী তাকে আটক করতে পারেনি। এটা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চরম অবহেলার দৃষ্টান্ত চিত্র ফুটে উঠেছে। আমরা আশা করি পুলিশ তার স্বরুপে ফিরে আসবে এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করবে।

চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির হোসেন বলেন, জুয়েলকে ডাকা হয়নি। তবে নির্বচানী সমাবেশ শুনতে যেকেউ আসতে পারে বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত জুয়েল রানকে গ্রেপ্তারে দুইবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে। এছাড়া তিনি স্যালেন্ডার করবেন কিনা সে বিষয়ে তথ্য নেই।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর