প্রকাশিত:
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আদলে ভূয়া কার্ড বানিয়ে নিন্ম মানের চাল বিতরণ এবং অর্থ আত্নসার্থের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটকৃতরা হলেন, শিবগঞ্ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের কাজিপাড়া জাবরী এলাকার তালেবের মেয়ে জেসমিন বেগম এবং একই ইউনিয়নের চৈতন্যপুর এলাকার মৃত সেতাউর রহমান ছেলে মৃদুল ইসলাম। জেসমিন বেগম মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্স এর নামে দীর্ঘদিন যাবত এই কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছিলেন এবং মৃদুল তার প্রতিষ্ঠানের ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহন আহমেদ বলেন, জেসমিন ও মৃদুল নামে দুইজন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আদলে কার্ড বানিয়ে সাধারন মানুষের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করছিলেন এবং তাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে তার তাদের কার্যক্রম পরিচালার জন্য কোন লাইসেন্স বা নিবন্ধন দেখাতে পারেনি। এছাড়া তদন্ত কমিটির কাছে এটি ভবিষ্যতে প্রতারণা মূলক কর্মকান্ড হতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়। তাই ডিসি স্যারের নির্দেশে আমরা শিবগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি এবং তাদের দুইজনকে আজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো করে ভুয়া কার্ড বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের চাল বিতরণ করে আসছিল একটি চক্র। এই চক্রর মূলহোতা জেসমিন বেগম। এ ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে থানায় একটি এজাহার দেয়া হয়। এজাহারের ভিত্তিতে রাতে অভিযান চালিয়ে ওই নারীসহ দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে জেলা প্রশাসন ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে ভুয়া কার্ড তৈরি করে চাল বিতরণের সময় জেসমিন বেগমকে হাতেনাতে ধরে। পরে জেলা প্রশাসন এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। জেসমিন বেগম চাল বিতরণের কার্ড ছাড়াও সরকারি প্রকল্পের ঘর, বয়স্ক-বিধবা-প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়ার নামেও জেলায় কয়েক হাজার পরিবারের কাছ থেকে ৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন।
এছাড়া এনিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা ধাইনগর ইউনিয়নের চেয়াম্যান আব্দুল লতিফ গত সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলন করে তার প্রতারণা মূলক কর্মকান্ড তুলে ধরেছিলেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছিলেন, ভিডাব্লিউবি কার্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডের জন্য ৮ হাজার টাকা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন এই চক্রটি।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: