[email protected] ঢাকা | বৃহঃস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ই আশ্বিন ১৪৩৩
thecitybank.com

মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ইউপি সদস্য জুয়েল গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
২৩ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ১৭:১৫

গ্রেপ্তারকৃত ইউপি সদস্য জুয়েল রানা। ছবি: সংগ্রহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ মাদক গডফাদার ও ইউপি মেম্বার মো: জুয়েল রানাকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিনের পলাতক এই আসামিকে তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট ব্যবহারে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।

 বুধাবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাত দেড়টার দিকে পরিচালিত এক চৌকস অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

গ্রেফতারকৃত জুয়েল রানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর বাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বর্তমান মেম্বার (ইউপি সদস্য)। তিনি চর বাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া গ্রামের মো: আমির আলীর ছেলে এবং বর্তমানে বেলেপুকুর এলাকায় বসবাস করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায় জুয়েল রানা এলাকায় জনপ্রতিনিধির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় মাপের মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় তার নাম ছিল ২ নম্বরে।

পুলিশ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার জিআর নং-৫১২/২৩ নম্বর হেরোইন মামলায় আদালত জুয়েল রানা’কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান চিহ্নিত করে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বালুবাগান মহল্লায় ববিতার ভাড়াবাড়ি ও জুয়েল রানার বেলেপুকুরের বাড়িতে আলাদাভাবে অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। অভিযানে ববিতার বাড়িতে ৭৫০ গ্রাম ও জুয়েল রানার বাড়ি থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইনসহ তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পরে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. আসাদুর রহমান বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ইলিয়াস হোসেন তালুকদার তদন্ত শেষে ববিতা ও জুয়েলকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি ও স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষনার সময় অভিযুক্ত ববিতা আদালতে উপস্থিত থাকলেও জুয়েল রানা পলাতক ছিলেন। এছাড়া ইউপি সদস্য সদস্য জুয়েল রানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে। তবে ০৫ আগষ্টের পট-পরিবর্তনের পর অভিযুক্ত জুয়েল রানা বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী হয়েও প্রকাশ্যে  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদের পক্ষে ভোটের প্রচারণাতে অংশগ্রহন করেন।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর