প্রকাশিত:
২ অক্টোবার ২০২৬, ২০:২৯
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিজানুর রহমান (২১) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক ইসমত আরা তুসির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে আদালতে নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা হত্যা রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছি। খুনিকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে বিচারক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে তিনি মিজানুর রহমানকে একই ছুরিকাঘাত করে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।’
নিহত মিজানুর রহমান সদর উপজেলার চরঅনুপনগর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামি নাম মো. শাহিন (২৪)। তিনি একই গ্রামের মো. জুয়েলের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, মিজানুর রহমানের মা রুবেদা বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামিদের নাম অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়। মামলা দায়েরের পর তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মিজানের বন্ধু ও মাদকাসক্ত শাহিনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে শাহিন স্বীকার করেন মিজান আর তিনি সবসময় একসঙ্গে মাদক সেবন করতেন। মাদক সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে পরিকল্পিতভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে মিজানুর রহমানকে হত্যা করে পরে অনুপনগরের সেবা ইটভাটার পাশে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়। পরদিন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন জানান, মাদক সেবন নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত এবং আসামি পরস্পর বন্ধু ছিল। তাদের পাশাপাশি বাড়ি। প্রায় এক বছর থেকে তারা একসঙ্গে মাদক সেবন করতো। ঘটনার দুই দিন আগে মিজানকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসামি শাহিন। পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে গরু জবাই করা ছুরি নিয়ে বের হয়। ঘটনার রাতে কৌশলে মিজানকে ঘটনাস্থলে আনা হয়। সেখানে ইয়াবা সেবনের এক পর্যায়ে ধারালো ছুরির আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।
এনামুল হক নাসিম/আ.আ
মন্তব্য করুন: