প্রকাশিত:
৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৩০
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এজাবুল হকের বিরুদ্ধে ইভটিজিং, র্যাগিং, প্রশাসনিক হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ গুরুতর একাধিক অভিযোগ তুলেছেন একই কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক (নন-ক্যাডার) সৈয়দা রেহানা আশরাফী ।
ইতিপূর্বে এই অভিযোগগুলোর তদন্ত অনুষ্ঠিত হলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবং বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগায় তিনি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও সচিব বরাবর চতুর্থবারের মতো পুনরায় তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন ।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী প্রভাষিকার একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৫/০৯/২০২৪ এবং ২৭/১১/২০২৪ তারিখে (নথিতে উল্লিখিত সম্ভাব্য তারিখ) সরজমিনে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয় । ওই তদন্তে প্রায় দশজন সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন যেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী প্রকাশ্য শুনানি হয় । শুনানিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ বক্তব্য প্রদান করে তার শাস্তি ও অপসারণ দাবি করেন এবং প্রায় ১৫ জন শিক্ষক ও অসংখ্য শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত বক্তব্যও প্রদান করেছিলেন ।
সৈয়দা রেহানা আশরাফী তার আবেদনে অভিযোগ করেছেন যে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল সূত্র ও শিক্ষকদের তথ্যমতে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও অদ্যাবধি অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি । উল্টো তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ক্রমাগত হুমকির শিকার হচ্ছেন এবং বর্তমানে নিজেকে অতি বিপদাপন্ন মনে করছেন । ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত প্রতিনিধি দল প্রেরণের অনুরোধ জানিয়েছেন ।
আবেদনের সাথে তিনি ৪৭ পৃষ্ঠার প্রমাণাদি পেশ করেছেন এবং পূর্ববর্তী তদন্তের মূল প্রতিবেদনসহ সহকারী পরিচালক জনাব আলমাস উদ্দীনের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ তলব করে অতিসত্বর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ।
তবে অভিযোগের বিষয়গুলো অস্বীকার করে অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলি বলেন, যিনি অভিযোগগুলো দিয়েছেন তিনি অনেক দিন থেকেই কলেজে আসে না। আমার বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ দিয়েছিলো, তদন্তও হয়েছে। তাছাড়া অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: