[email protected] ঢাকা | মঙ্গলবার, ৩০শে জুন ২০২৬, ১৫ই আষাঢ় ১৪৩৩
thecitybank.com

এইচএসসির প্রবেশপত্র পেতে ৮০০ টাকা গুনছেন পরীক্ষার্থীরা

চাঁপাই জার্নাল ডেস্ক:

প্রকাশিত:
২৯ জুন ২০২৬, ২০:০৩

প্রতিকী ছবি

এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) বিতরণকে কেন্দ্র করে ভোলার তজুমদ্দিন সরকারি ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে এমন ঘটনায় উদ্বেগ, ভোগান্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে কলেজে প্রবেশপত্র নিতে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে প্রবেশপত্র হাতে দেওয়ার আগে ৮০০ টাকা পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে। এ অর্থ আদায়ের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের কোনো নির্দেশনা না থাকলেও টাকা ছাড়া প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে না। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রবেশপত্র বিতরণকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহজালালের নির্দেশে প্রবেশপত্র বিতরণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কাছে এই অর্থ আদায় করছেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক কাজী নজরুল ইসলাম, সদস্য প্রভাষক মো. আহসান উল্লাহ ও প্রভাষক মো. শাহীন। প্রবেশপত্র বিতরণের নামে টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বলেন, ‘এ টাকা দিয়ে তোমাদের পরীক্ষার কেন্দ্রের খরচ বহন করা হবে।’

পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য, পরীক্ষা শুরু হতে আর অল্প সময় বাকি। এই অবস্থায় প্রবেশপত্র না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছেন। আবার অনেকে অর্থের ব্যবস্থা করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের অসহায় পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া হচ্ছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বিষয়টি শুধু ৮০০ টাকা আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে এইচএসসি রেজিস্ট্রেশনের সময়ও তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ হাজার এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে ফি ধার্য করা হয়েছিল। সে সময় বেশির ভাগ শিক্ষার্থী তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করলেও কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি। এখন আবার নতুন করে বিভিন্ন খাতের কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কোনো কোনো শিক্ষার্থীর কাছে এইচএসসির রেজিস্ট্রেশনের সময় ৬ হাজার কিংবা ৫ হাজার টাকাও নেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে সেই সংখ্যা কম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেন আবার অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহজালাল। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশনের সময় শিক্ষার্থীরা আড়াই হাজার টাকা করে দিয়েছিল। পরে বাকি টাকা এবং কলেজের বিভিন্ন ফি মিলিয়ে মোট তিন হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এখন সেই বকেয়া আদায় করা হচ্ছে।

তার দাবি, পরীক্ষার সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্টদের সম্মানী, পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন এবং অন্যান্য খাতে ব্যয় রয়েছে। কলেজের তহবিলে কোনো অর্থ নেই। এছাড়া কলেজের ২৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং সম্ভাব্য অডিট আপত্তি এড়াতেও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। সে কারণেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

তবে এ ব্যাখ্যাকে ভিত্তিহীন বলছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষ যে পরিমাণ অর্থ নেওয়ার কথা বলছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ আগেই নেওয়া হয়েছে। অথচ কোনো অর্থের রশিদ দেওয়া হয়নি। এখন আবার প্রবেশপত্র বিতরণের সময় নতুন করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বনি আমিন বলেন, ডিসি, ইউএনও বা পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানীর জন্য শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফি রয়েছে। অধ্যক্ষ যদি এ খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে অর্থ নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি অন্যায়। এ ধরনের কাজ করতে দেওয়া হবে না। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জি এম শহীদুল ইসলাম বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা প্রবেশপত্র বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। এমনটি করা হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস/ডেস্ক/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর