[email protected] ঢাকা | রবিবার, ১৯শে জুলাই ২০২৬, ৩রা শ্রাবণ ১৪৩৩
thecitybank.com

চাঁপাইনবাবগঞ্জে “গাক” এর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, শতাধিক রোগীর সেবা

নিজস্ব সংবাদদাতা:

প্রকাশিত:
১৮ জুলাই ২০২৬, ১৭:১৯

চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে অতিথিবৃন্দ। ছবি: চাঁপাই জার্নাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাক (গ্রাম উন্নয়ন কর্ম) চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে শনিবার শহরের নামো শংকরবাটি ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শতাধিক মানুষ চক্ষু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। রোগীদের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, ওষুধ ও চশমা বিতরণের পাশাপাশি ছানি আক্রান্ত রোগীদের অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়।

ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ, ভিশন ইনিশিয়েটিভ, অরবিস এবং পিকেএসএফের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চোখের বিভিন্ন রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। যেসব রোগীর ছানি অপারেশন প্রয়োজন হয়েছে, তাদের গাক চক্ষু হাসপাতাল, বগুড়ায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপারেশনের পাশাপাশি রোগীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, ওষুধ ও চশমার ব্যয়ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। তিনি বলেন, "দৃষ্টিশক্তি মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। অনেক মানুষ অর্থাভাবে সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না। গাক চক্ষু হাসপাতালের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি এভাবে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে অন্ধত্ব প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।"

বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান।

ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গ্রামের অনেক মানুষ দীর্ঘদিন চোখের সমস্যায় ভুগলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান বলেন, চোখের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। মানবিক এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (গাক), বগুড়ার সিনিয়র পরিচালক ড. মো. মাহবুব আলম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্ধত্ব প্রতিরোধে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। গাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সহজেই উন্নতমানের চক্ষু চিকিৎসা সেবা পান।

বক্তারা বলেন, সময়মতো চোখের রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অন্ধত্বের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্প সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
ক্যাম্পে আগত রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন চোখের চিকিৎসা করাতে পারেননি। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা।

আয়োজকরা জানান, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমিয়ে আনাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এজন্য ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সেবাগ্রহণকারী রোগীরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী ক্যাম্পটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

সাজেদুল হক সাজু/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর