প্রকাশিত:
২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:০৪
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘বড়সড়’ নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এমন কিছু ঘটবে না—এটাই তিনি চান।
বৃহস্পতিবার, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম থেকে ফেরার পথে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের দিকে খুব সতর্কভাবে নজর রাখছি।’
তিনি জানান, ‘আমাদের একটা বড় বাহিনী ইরানের দিকে এগোচ্ছে। আমি চাই না কিছু ঘটুক, তবে আমাদের অনেক জাহাজ সেখানে যাচ্ছে। দরকার হলে যেন ব্যবহার করা যায়—এই প্রস্তুতি রাখতেই এতটা সতর্কতা।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর নেতৃত্বে একটি বিমানবাহী রণতরী গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। এটি পূর্বের ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন বহরের জায়গা নেবে।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বহরটি দক্ষিণ চীন সাগরে চলমান সামরিক মহড়া থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, তার সাম্প্রতিক হুমকির পর ইরানে ৮০০–এর বেশি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। তিনি ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা পারমাণবিক কর্মসূচি চালু করলে আবারও আঘাত হানব।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এ এক নিবন্ধে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলা করে, আমরা যা কিছু আছে, সব দিয়ে জবাব দেব।’
তিনি লিখেছেন, ‘এটা হুমকি নয়, বাস্তবতা। কারণ আমি একজন কূটনীতিক হিসেবে যুদ্ধকে ঘৃণা করি। তবে যুদ্ধ শুরু হলে তা ভয়াবহ হবে এবং বহুদিন চলবে। এই সংঘাত গোটা অঞ্চলকে গ্রাস করবে এবং সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষ এতে আক্রান্ত হবে।’
সূত্র: আল জাজিরা/ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: