প্রকাশিত:
১০ মার্চ ২০২৬, ২২:৪১
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ অবসানের ইঙ্গিতের বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া বার্তা অনেকটাই ভিন্ন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিজের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার জানিয়ে বলেছেন, তার লক্ষ্য হলো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা, যার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতন ঘটে।
কেবল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা কিংবা সরকার দুর্বল করার মধ্যেই এই যুদ্ধ সীমাবদ্ধ নয় বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, এই সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ ইরান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
অবশ্য ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও বিরোধ নেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জনগণকে যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে তা হলো, এই কাজ সম্পন্ন করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, তারা ততটুকু সময়ই নেবে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ‘জীবনের সেরা সুযোগ’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, ইসরায়েল এই সুযোগ হাতছাড়া করতে পারে না, পিছু হটতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ এই যুদ্ধে অংশ নিতে ইচ্ছুক, ইসরায়েলের ততক্ষণ ইরানে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি করা উচিত।
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে যা শোনা যাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের বার্তার বিপরীত। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তা কেবল তেহরানই নির্ধারণ করবে। তারা বলছেন, ইরানের সেনাবাহিনী দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই বিষয়ে তেহরান থেকে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি বলেছেন, ‘‘আমি বর্তমানে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার স্থান পরিদর্শন করেছি। সেখানে থাকা অবস্থায় আমি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে শুনেছি।’’
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আরও উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের দাবি জানিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে।
• ইরানের সঙ্গে অন্তহীন যুদ্ধ চায় না ইসরায়েল
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেছেন, সরকার ইরানের সঙ্গে কোনও ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চায় না এবং যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করবে। জেরুজালেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ শেষ করার সঠিক সময় নিয়ে আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করব। আমরা কোনও অন্তহীন যুদ্ধ খুঁজছি না।
তবে যুদ্ধ কখন শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
• উত্তেজনার নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে
কিংস কলেজ লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত যুদ্ধের শর্তাবলি নির্ধারণের চেষ্টা করবে। শেষ পর্যন্ত দাবি করবে, ইরানকে যথেষ্ট দুর্বল করা হয়েছে; যাতে তারা জয় দাবি করে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
ক্রিগ বলেন, তবে আমার মনে হয় না ইরান তাদের তেমনটা করতে দেবে। উত্তেজনার নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই রয়েছে।
পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘‘ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সম্পর্কের কী হবে? তারা কি (ইরান) খুব কম খরচে হামলা চালিয়ে যাবে? হরমুজ প্রণালির কী হবে? জ্বালানি নিরাপত্তার কী হবে? সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে?’’
অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, এসব কিছুই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির শিকার হতে পারে। আর এসবের সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনী যে ধরনের কৌশলগত অর্জনের কথা বলে বেড়াচ্ছে, তার কোনও সম্পর্ক নেই।
সূত্র: আল জাজিরা/ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: