প্রকাশিত:
১৩ জুন ২০২৬, ১৬:০৭
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি শান্তিচুক্তির আভাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। গত তিন মাসের মধ্যে তেলের দাম নেমে এসেছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশা জেগেছে, পারস্য উপসাগরের উত্তেজনা কমলে আবারও স্বাভাবিক হবে তেলের সরবরাহ।
শুক্রবার (১২ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent Crude) দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ০৫ ডলার বা ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭ দশমিক ৩৩ ডলারে। গত মার্চ মাসের শুরুর পর ব্রেন্ট ক্রুডের এত কম দাম আর দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮৩ ডলার বা ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ৮৪ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমেছে। গত ১৭ এপ্রিলের পর ডব্লিউটিআইয়ের এটিই সর্বনিম্ন দাম।
পশ্চিমা একটি কূটনৈতিক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী রোববারই একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম শোনা যাচ্ছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকে এখনো আনুষ্ঠানিক সই হয়নি এবং এর শর্তগুলোতে পরিবর্তন আসতে পারে।
এগেইন ক্যাপিটালের পার্টনার জন কিলডাফ বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকের আভাস পাওয়ার পর থেকেই বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি এড়াতে এই চুক্তির কোনো বিকল্প ছিল না।
পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক তামাস ভার্গা বলেন, চুক্তি সই এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে যাওয়ার ব্যাপারে বাজারে আস্থা বাড়ছে। আর এই খবরের ওপর ভিত্তি করেই তেলের বাজার নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে।
তবে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক আইএনজি (ING)-এর বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, জুলাইয়ের শেষের দিকে বাজার একটি চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে। যদি তার আগে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তবে মজুত সংকট এবং মৌসুমী চাহিদার কারণে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ ডলারে উঠে যেতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিল, কোনো জাহাজ সেখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছিল। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনো এই জলপথ দিয়ে চলাচল করছে।
সূত্র: রয়টার্স/ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: