প্রকাশিত:
১৮ মে ২০২৬, ১৯:০৭
অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, নির্বাচনী গণতন্ত্রের যাত্রায় বিগত নির্বাচনগুলোর ইতিহাস সুখকর নয়। ২০২৪ সালের জুলাই-উত্তর বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি ঐতিহাসিক ও শ্রেষ্ঠ নির্বাচন দেখার। নির্বাচন কমিশন পলিসি লেভেলে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও মাঠপর্যায়ে বা ভেতরের প্রক্রিয়ায় সেই স্বচ্ছতা বজায় থাকেনি। আইনের তোয়াক্কা না করে কালো টাকার ব্যবহার এবং এক শ্রেণির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভোটের ফলাফলে এক ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (১৮ মে) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর বিদায়ী ও নতুন কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য গণমাধ্যম এবং নির্বাচন কমিশনকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় যত সুন্দর হবে, দেশ ও জনগণের স্বার্থ তত বেশি সংরক্ষিত হবে।
বিগত নির্বাচনের গুণগত কিছু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়েছেন এবং বড় ধরনের কোনো হাঙ্গামা দেখা যায়নি, যা ইতিবাচক। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কারণে একে পুরোপুরি সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যাচ্ছে না। কমিশনের চেইন অব কমান্ডের মধ্যে থাকা কিছু লোক এই অনিয়মের অংশীদার ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং এ বিষয়ে আদালতে প্রমাণসহ নথিপত্র জমা দেওয়ার কথা জানান।
জাতীয় সংসদের শপথ অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন কমিশনের আইনি বৈধতা নিয়ে সংসদে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে পার্লামেন্টে যেসব সমালোচনা বা রেজুলেশন আনা হয়েছে, সে বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা জাতি পায়নি। দেশের গণতন্ত্রকে একটি মসৃণ পথে এগিয়ে নিতে হলে ভোটের সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু সুন্দর সুন্দর বক্তব্যের ফুলঝুরি দিয়ে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, বরং প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে আমানতদারিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করতে হবে। পূর্বের ফ্যাসিবাদী আমলের মতো রক্তাক্ত সংঘর্ষ বা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ যেন এই নির্বাচনে না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই এখন নির্বাচন কমিশনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বড় ক্ষতি জামায়াত চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে সঠিক পথে রাখতে রাজপথে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনগণ তাদের পাশে থাকবে। একইসঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশন এবং জনগণের ভোটাধিকারের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে তিনি উপস্থিত সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: