[email protected] ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই ২০২৬, ৩০শে আষাঢ় ১৪৩৩
thecitybank.com

সরকারি হাসপাতালে ব্যবসার মেকানিজম ঢুকলে যা আছে তাও শেষ হয়ে যাবে: ডা. শফিকুর রহমান

চাঁপাই জার্নাল ডেস্ক:

প্রকাশিত:
১৩ জুলাই ২০২৬, ২২:২৩

বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি/সংগ্রহীত

সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে যৌথ মূলধনী কোম্পানির আদলে যে–কোনো ধরনের ব্যবসায়িক বা লাভজনক উদ্যোগ যুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। দেশের সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থলটুকু রক্ষায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত বিলটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার হলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্র তা শতভাগ নিশ্চিত করতে পারছে না। এর মধ্যেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধ্যমতো সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দেশে সরকারি পর্যায়ে একমাত্র উচ্চতর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে মূলত তারাই আসেন, যাদের বেসরকারি নামী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য নেই। এই জায়গায় যদি কোনো ‘প্রফিট বেজড’ বা মুনাফাভিত্তিক উদ্যোগের অনুপ্রবেশ ঘটে, তবে তা সাধারণ মানুষের ওপর বিশাল আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেবে।

জয়েন্ট স্টক কোম্পানির মাধ্যমে এই উদ্যোগের নিবন্ধন নেওয়ার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, জয়েন্ট স্টকের অধীনে দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকে, একটি ব্যবসায়িক এবং অন্যটি দাতব্য। যদি সম্পূর্ণ অলাভজনক বা চ্যারিটি বেজড কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো ধরনের প্রফিট কনসার্ন এখানে যুক্ত হলেই বিদ্যমান চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। একই সঙ্গে এই অপারেট করার মেকানিজমে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে বর্তমানের ন্যূনতম চিকিৎসাব্যবস্থাও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে তিনি গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এই পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি না করে বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হোক। সেই কমিটি সার্বিক দিক গভীরভাবে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে যদি কোনো প্রকৃত জনকল্যাণকর বিল আনতে পারে, তবেই তা পাস করা যুক্তিসঙ্গত হবে বলে তিনি দাবি করেন।

ডেস্ক/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর