প্রকাশিত:
৫ আগষ্ট ২০২৬, ২২:৩৫
দীর্ঘ সতের বছর জগদ্দল পাথর হয়ে জনগণের উপরে চেপে বসেছিলো। দীর্ঘদিন এই স্বৈরাচার সরকারকে বিতারিত করতে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিএনপির শরিকদলগুলো আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিলো। এই আন্দোলন দমন করতে খুনি হাসিনা প্রায় দেড় হাজার জনের বেশী নেতাবৃন্দকে গুম করেছে। বিশ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। সেইসাথে ষাট লক্ষ নেতাকর্মীর নামে ছয় লক্ষ মিথ্যা মামলা দ্বায়ের করেছে।
সেই মামলায় এখনো হাজিরা দিতে হয় বলে বুধবার বিকেলে কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ মাঠে রাজশাহীর পবা উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে ৫ আগস্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূতি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিজয় র্যালি পূর্ব এবং পরবর্তী বক্তব্যে রাজশাহী-৩(পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে জুলাই মাসে ছাত্ররা কোট সংস্কার নিয়ে আন্দোলন শুরু করলেও পরবর্তীতে এটা সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রুপ নেয়। স্বৈরাচার খুনি হাসিনা নিজের ক্ষমতাকে ধরে রাখতে ছাত্র-জনতার উপরে তার দলীয় ক্যাডার ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে লেলিয়ে দেয়। আওয়ামী আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের উপরে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল, ও নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় দেড় হাজারের বেশী ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে। সেইসাথে হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে পঙ্গু করেছে। এখনো তারা যন্ত্রনায় ছটফট করে। অনেকের শরীরের মধ্যে এখনো বুলেট রয়ে গেছে। কোনভাবেই বের করা যাচ্ছেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শুধু তাইনয় খুনি হাসিনার রোষানল থেকে শিশুরাও রেহাই পায়নি। কোলের শিশুকেও হত্যা করেছে। এছাড়াও পথচারী ও কিশোরদের সম্পুর্ন অন্যায়ভাবে অতি উৎসাহী পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদসর্যা হত্যা করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলে, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের খুনি ও আহত করার সাথে যারাই জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির সম্মুখিন করা হবে। সেইসাথে বিএনপি স্বাক্ষরীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সর্বদা কাজ করে যাবেন বলে জানান তিনি।
সংসদ সদস্য আরো বলেন, খুনি হাসিনা ভারতে থেকে মাঝে মধ্যে হুঙ্কার দিচ্ছে তিনি নাকি দেশে আসছেন। যেকোন সময়ে টুপ করে দলবল নিয়ে দেশে আসবেন। বিএনপিসহ দেশের মানুষও চায় আপনি দেশে আসুন। আপনি যেভাবে আয়না ঘর বানিয়ে নির্যাতন করানো শিখিয়ে গেছেন, সেই আয়না ঘরেই আপনাকে রাখা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, খুনি হাসিনা বিভিন্ন মামলায় ফাঁসির আসামী। দেশবাসী চায় ঐ স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট হাসিনার দ্রুত ফাঁসি হোক। এতে করে নির্যাতনের স্বীকার পরিবারের সদস্য ও নির্যাতিত ব্যক্তিরা শান্তি পাবেন বলে জানান তিনি। তিনি এই খুনি হাসিনার দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবী জানান।
বক্তব্য শেষে সহশ্রাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে নিয়ে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় হতে বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি কাঁঠালবাড়িয়া মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত পথ সভার মধ্যে দিয়ে কর্মসূচী শেষ হয়।
পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য দামকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, কুতুব উদ্দিন বাদশা, আব্দুল মান্নাফ মুন্নাফ ও আব্দুল হালিম, রাসিক ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা, জেলা যুবদলের সদস্য ফরিদুল ইসলাম সাহেব, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুর রহমান, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, সাবেক সদস্য মাজদার রহমান, পবা উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক জুলাই যোদ্ধা সাদ্দাম হোসেন, সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
এস.এম/আ.আ
মন্তব্য করুন: