প্রকাশিত:
৩১ অক্টোবার ২০২৬, ১৭:২৬
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভালোবাসায় সরকারে এসে এখন যারা গণভোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করছেন, তাদের সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ক্রমান্বয়ে শক্ত থেকে মহাশক্ত রূপ ধারণ করবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে খুলনার ঐতিহাসিক শিববাড়ি মোড়ে সাত দফা দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন গণভোটে 'হ্যাঁ' বিজয় হলে আমরা তা বাস্তবায়ন করব। তারা সংসদে ইঞ্জিনিয়ারিং করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরে এখন বলছে আমরা গণভোট মানি না। ৭০ ভাগ ভোটার গণভোটের পক্ষে 'হ্যাঁ' বলেছে। সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন আমরা তো ওসব মেনে নিয়েছি, ভোটটা যেন কোনো অবস্থায় বিলম্বিত না হয়। অর্থাৎ আমাদের গদিতে বসা যেন দেরি না হয়। এখন গদি পেয়ে গেছি আর কোনো কথা আমাদের সাথে নাই। আমরা এখন বসে হাসিনার মতো দেশ চালাবো। তারা কী এর মধ্যে ভালো কিছু করেছেন? কয়েকটা কার্ড বিতরণ করেছেন।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই কার্ড কী চুরি হয়ে লন্ডনে চলে গেছে। নাকি শ্রীলঙ্গে চলে গেছে। এতগুলা মানুষ কেউ একজন হাত তুললেন না। আর সেই কার্ডের জয়ধ্বনি সাড়া শুনতে শুনতে এখন কানের পর্দা আমাদের ফেটে যাওয়ার উপক্রম। কার্ডে দিচ্ছেন এক হাজার, দেড় হাজার, দুই হাজার, আড়াই হাজার টাকা। আর শুধু গ্যাস বিল কারেন্ট বিল থেকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নিচ্ছেন প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা। গ্যাস দিতে পারেন না কিন্তু বিল তো দিতে হয়। কারেন্টের নাম নেই কিন্তু ভুতুড়ে বিল আসে। এগুলো জাতির অর্থকে ডাকাতি করা হচ্ছে। আমরা এই সমস্ত দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি।
তিনি বলেন, কৃষক সার পায় না, পাবে কেমনে? নতুন করে উনারা ডিলার নিয়োগ দিচ্ছেন ২০-২৫, ৩০ লাখ, ৫০ লাখ, এক কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে। এটা নিয়ে হইচই হচ্ছে আবার নিজেদের মধ্যে খাবলা- খাবলি হচ্ছে। জীবন চলে যাচ্ছে কিন্তু কৃষক তো সার পায় না। আমরা এই দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। আমরা নেমেছি আমাদের প্রাণপ্রিয় হাদীসহ সাড়ে ১৫ বছর বিশেষ করে জুলাইতে, যাদের খুন করা হয়েছে। সেই খুনিদের বিচারের দাবিতে।
রাস্তায় নামার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে সরকারি দলের চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ জাতিকে চাঁদার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। রাস্তায় নেমেছি জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার শুরু হয়েছে, এই লুটপাট ঠেকিয়ে দেওয়ার জন্য। গণভোটের গণ রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিষ্কার বার্তা এরই বাস্তবায়ন হবে ইনশাল্লাহ। বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি একটার পর একটা শক্ত থেকে মহা শক্তের দিকে যাবে।
তিনি বলেন, এবার লং মার্চে ঢাকা থেকে এসেছি খুলনায়, যদি এক দফার প্রয়োজন হয় তাহলে যখন খুলনা থেকে ঢাকায় যাওয়ার ডাক দেওয়া হবে তখন গ্রাম-বাংলার প্রত্যেকটি ঘর থেকে আপনারা কী ঢাকায় গিয়ে হাজির হওয়ার জন্য প্রস্তুত? দাবিগুলো আমাদের দলীয় বা জোটের দাবি নয়, প্রত্যেকটি দাবি এদেশের মানুষের দাবি, বাঁচা মরার দাবি। আমরা জনতার সাথে আছি।
জামায়াতের আমির বলেন, ইনশাআল্লাহ জুলুমবাজের খতম হবে, জনগণের বিজয় হবে। সেই বিজয়ের জন্য আমাদের এই লড়াই। এ দাবি আদায় হবে। এ দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরবো ইনশাল্লাহ। আমরা ১১ দলের বিজয় চাই না, এ দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের বিজয় এবং মুক্তি চাই। নাগরিকদের বিজয় এবং মুক্তির জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের ভালোবাসা সমর্থন আছে। আজকের এই সমাবেশ তার প্রমাণ। রাস্তায় রাস্তায় তার প্রমাণ পেয়ে এসেছি। কথা দিয়ে যাচ্ছি, জীবন যাবে জাতির সাথে বেঈমানি করবো না ইনশাআল্লাহ। জাতির জন্য লড়াই করতে করতে আল্লাহ যেন শহীদ হিসেবে কবুল করেন। মাঝখানে কোনো আপোষ নাই। আপোষ করতে জানি না, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করতে জানি না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যতদিন পর্যন্ত একটা শোষণমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত, সাম্যের বাংলাদেশ, মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গঠিত না হবে, আমাদের আন্দোলন চলবে ইনশাল্লাহ।
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহ্বায়ক ও খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
এছাড়াও সমাবেশে এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি ও ছাত্রশিবিরসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: